কুড়িগ্রামে জমিজমা সংক্রান্তে এক(১) বছরে প্রাণ ঝড়েছে ১৪ জনের।

 কুড়িগ্রাম, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

ছবিঃ কুড়িগ্রাম জেলার মানচিত্র। 

গেলো বছর ২০২৫ সালে জমি বিরোধে প্রাণ হারানোর ঘটনা ছিলো কুড়িগ্রামে উল্লেখযগ্য। সামান্য বিষয় নিয়ে সংঘর্ষ হতো দু-পক্ষ এতে প্রাণ হারাতো অনেকে।


জেলা পুলিশের তথ্য বলছে, গেলো বছর ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর এই এক বছরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে কুড়িগ্রামে প্রাণ গেছে অন্তত ১৪ জনের। তাছাড়া জেলার এগারোটি থানায় মামলা হয়েছে ২৮৫ এরও চেয়ে বেশি। এসব মামলায় আসামি প্রায় আড়াই হাজার। গ্রেপ্তার হয়েছে ২৭৬ জন।


সচেতন মোহল বলছে চলতি বছরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ এই অঞ্চলের জন্য শঙ্কার। জেলার ইতিহাসে জমি সংক্রান্ত সংঘর্ষে এতো প্রাণহানীর ঘটণা ঘটেনি যা ঘটেছে ২০২৫ সালে।


এনিয়ে কুড়িগ্রামের সুজন, সভাপতি মোঃ খায়রুল আলম বলেন, জমি সংঘর্ষের কারণে মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে। এটি কেনো হচ্ছে? মানুষ কেনো এতো অসহনশীল হচ্ছে? এর মূলত কারণ গুলো হলো, এই মামলা গুলির দীর্ঘসূত্রীতা। একটি মামলা অনেক দিন ধরে চলে। চলতে চলতে মানুষ ধর্য্য হারা হয়ে পড়ে। কাজেই আইনের প্রতি বিচারের প্রতি মানুষের আস্তা কমে যায়। ফলে তারা অসূচনীয় হয়ে এই ম্যাডার গুলো করে।


জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, আমি মনে করি আমরা যারা সমাজের সচেতন অংশ। যারা সচেতন হিসাবে কাজ করতেছি। আমরা যদি এই জমি সংক্রান্ত সমস্যা যাদের মধ্যেই আছে তাদের কে যদি আমরা বুঝাতে পারি। তাদের মধ্যে যদি সচেতনতা তৈরি করতে পারি। এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ গুলো আমরা স্থানীয় ভাবে আপস মিমাংসা করে দিতে পারি। কিংবা আদালতে যেগুলো বিচারাধীন আছে। বিজ্ঞ আদালত থেকে যদি আমরা দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি করে দিতে পারি। তাহলে হয় তো এই সম্পত্তি নিয়ে মারামারি কিংবা এই অস্বাভাবিক প্রাণহানীর ঘটণা গুলি প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।


পুলিশ সুপার, খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, পুলিশ প্রশাসন প্রতিনয়ত দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে এবং আসামিদের কে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে যে পরিমাণ খুন-খারাপি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টাকে আইনগত দিক থেকে বললে এই ধরণের ঘটনা যেনো না ঘটে এই জন্য পুলিশ সব সময় শুচ্ছার থাকে। এই সংক্রান্ত যে মামলা গুলি হচ্ছে তার সুন্দর ভাবে তদন্ত করানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন এই ধরনের ঘটনা যেনো না ঘটে এই জন্য আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। 


আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং পারিবাড়িক বন্ধন বাড়ানো গেলে এমন ঘটনা গুলো আর ঘটবে না বলে মনে করছেন সচেতন ব্যাক্তিগণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন