কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী উপজেলা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
![]() |
| ছবিঃ ফসলি জমিতে ইটভাটা। |
কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরী উপজেলায় পরিবেশ ও আইন কে লঙ্ঘন করে অবৈধ ভাবে চালাচ্ছে ইটভাটা। এই উপজেলায় ১৮ টি ইটভাটা থাকলেও ১৩ টি ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা অনুমোদন ছাড়াই চলমান রয়েছে।
অবৈধ ইটভাটা গুলো দেখা যায় আটটি ফসলি জমির মাঝখানে, দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিকটে এবং তিনটি জনবসতি এলাকার ভিতরে। অধিকাংশ ইটভাটা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কোন ধরনের আধুনিক বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয়রা।
ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে, ইট তৈরির জন্য কেটে নেওয়া হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি। জ্বালানি হিসাবে কয়লার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ ব্যবহার করায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। এর ফলে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকিতে পরছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনা, একাধিক বার তলব বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান করা হলেও বন্ধ হয়নি ইটভাটা কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তপ্তরগুলোর রহস্যজনক নিরবতা ও দর্বল তদারকির কারণেই দিনের পর দিন অবৈধ ইটভাটাগুলো উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে স্থানীদের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা ও সক্ষমতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দ রেজওয়ানা হাসান, সম্প্রতি বায়ুদূষণ রোধে পুরোনো এবং পরিবেশ বিধ্বংসী ইনভাটা নিষিদ্ধ ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে নতুন ইটভাটার লাইসেন্স বা অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন হলো ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন। (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৯ ( সংশোধিত)
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বদরুজ্জামান রিসাদের কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তাঁর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লনা জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে সাতটি ইটভাটা কে ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি জরিমানা করা হলে ইটভাটা গুলো বন্ধ করা হয়নি।
