জামায়াত, চরমোনাই, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট কি ভাঙ্গছে না?

 বাংলাদেশ, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

ছবিঃ ডাঃ শফিকুল রহমান, রেজাউল করিম, নাহিদ ইসলাম।

সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে ঘিরে ইসলামি দল গুলোর মধ্যে দেখা দিয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতোপাথক্য এবং চাওয়া পাওয়া। জুলাই জাতীয় সনদকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৮ টি দল একই শাড়ীতে মিলিত হলেও পরবর্তীতে দেশ এবং জাতির কল্যাণে ৮ টি দল এক বাক্সসে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় দলের শীর্ষ নেতাগণ।


শুরুতে তারা এক সাথে বিভাগীয় সমাবেশসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতাদের কে নিয়ে সংগ্রাম করেন জাতীয় নির্বাচনের আগে "গণভোট" সহ ৫ দফা দাবিতে। সমাবেশর মধ্যেও নির্বাচনি আভাস উঠে আসে ৮ দলের এক বাক্সের কথাটি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে "গণভোটের"। 


তারপর নির্বাচনি দিন এগোতে থাকলে বাড়ছে ঐক্য ভাঙ্গার গুঞ্জন। প্রার্থী চূড়ান্ত এবং আসন সমঝোতা নিয়ে দল গুলোর মধ্যে শুরু হয় মতপার্থক্য। এ বিষয় সাধারণ জনমতের দৃষ্টি চলে যায় ৮ দলের শীর্ষ নেতাদের উপর।


সম্প্রতি, কিছুদিন আগে দল গুলো প্রধান প্রধান নেতাদের কাছে থেকে শোনা যাচ্ছিল ৮ দলের সাথে নতুন আরও দল অংশ হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যদিও ঘটনার সত্য প্রকাশ করেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুল রহমান প্রেস বিফিংয়ের মাধ্যমে। আমীরে জামায়াত ঘোষণা দেন এনসিসিসহ আরও ৩ দল তাদের নির্বাচনি শরিক হচ্ছেন। যদিও এনসিপি আগে থেকে তাদের সাথে ছিলো না। কিন্তূ পরবর্তীতে নির্বাচনী পরিপেক্ষিতে জোট গঠনে অংশ নেয় এনসিপি।


এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট হলেও টানাপোড়ানের ঘটনা ঘটে জামায়াত চরমোনাইয়ের মধ্যে। ইতিমধ্যে চরমোনাইয়ের সিনিয়র নায়েবে আমীর ফজলুল করিম জোট থেকে বেড়িয়ে আসার কথা সরাসরি মিডিয়া কে জানিয়ে দেয়। তা নিয়ে তোলপাড় উঠে জনমনের মধ্যে। চরমোনাই দাবি করেন প্রার্থী চূড়ান্ত বা আসন সমঝোতার মধ্যে আমাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়ে তা কোন এক পক্ষ মানতেছে না। এবং ৮ দলের বিশেষ বিশেষ আলোচনা তাদের কে ডাকা হয় নাই। আসন নিয়ে যে আলোচনা বা কথা হয়েছে তা ঠিক মতো পালন করে নাই। এমন অভিযোগ করেন চরমোনাইয়ের নায়েবি আমীর।


এ নিয়ে চলছিলো অনেক আলোচনা সমালচনা। তবে শীর্ষ নেতাদের দাবি তাদের মধ্যে যে সমস্যা তা ঠিক হয়ে যাবে। এবং তাঁরা জোট বদ্ধ ভাবে নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছে দলগুলোর নেতারা। নেতারা বলেন, আমরা দেশ এবং জাতি স্বার্থে যে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি তা আমরা চাইবো না ভেঙ্গে যাক। আমরা চাইবো আমাদের দেশ এবং জাতির কল্যাণে যে অঙ্গীকার করেছি তা ধরে রাখতে। এমন কথা জানিয়েছে ১১ দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা।


এরমধ্যে ১১ জোটের অংশ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আজ সন্ধার একটি স্টাটাস দেয়। তাতে উল্লেখ করেন যে, স্বৈরাচার কে না বলুন, গণভোটে হ্যাঁ বলুন, ১১ দলের পক্ষে থাকুন গণভোটে হ্যাঁ বলুন।

ছবিঃ নাহিদ ইসলামের স্টাটাস।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের এই স্টাটাসে জনমনের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয় ১১ দলীয় জোট না ভাঙ্গার স্পষ্টতা নিয়ে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন