মাস পেরিয়ে গেলেও হাদি হত্যার এখন সুস্পষ্ট কোন বিচার পায়নি ইনকিলাব মঞ্চ।

 নিজস্ব প্রতিবেদন, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ছবিঃ শহিদ ওসমান হাদি।

গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে রিক্সা করে যাচ্ছিলেন হাদি। ঠিক সেই সময় পিছন থেকে মোটরসাইকেলে করে এসে মাথায় গুলি করে হাদির। হাদি'র মাথা ভেদ করে গুলি বেড়িয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হাদি গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পরেন। পরে তাকে ওই রিক্সায় করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলেও অসুস্থের ঝুঁকি বাড়ার কারণে হাদিকে নেওয়া হয় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে। এভার কেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসার কোন উন্নতি না হাওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরিবারের অনুমতি নিয়ে হাদি কে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে। সেখানেও তার চিকিৎসা উন্নতি হয়নি। সিঙ্গাপুরের ডাক্তার অনেক চেষ্টা করার পরও হাদির উন্নত চিকিৎসা না হাওয়ায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে পরপার গমন করেন। এতে দেশ বিদেশের অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং হাদির মৃত্যুে কে একটি বড় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসাবে আখ্যাহিত করেন।


হাদির মৃত্যুর খবর দেশে ছড়িয়ে পরার পর পরেই দেখা দেয় দেশে আন্দোলনের ঝড়। সবার দাবি হাদি জুলাই আগস্টের স্মমূখ শাড়ির নেতা। হাদি ন্যায় এবং ইনসাপের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিশ্চিল। এমতাবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়েছে আমরা হাদি হত্যার আসল খুনিকে খুব দ্রুত জাতির সামনে স্পষ্ট ভাবে তুলে ধরার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কে অনুরোধ জানাচ্ছি। যদি তারা ব্যর্থ হয় তাহলে আমাদের সংগ্রাম চলবে। এমন পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের সাথে কে বা কারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। এমন দাবি করেন হাদির সমর্থকসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা। 


কিন্তূ দিনের পর দিন পার হলেও পায়নি এখনো সুস্পষ্ট বিচার বা জড়িতদের তালিকা। এতে হাদির পরিবার এবং হাদির সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ হতাশ হয়ে দেশের আইনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও বা পুলিশের চার শিট ও বিবৃতিতে বলা হয়েছে হাদি হত্যার সাথে জড়িত বা মাস্টার মাইন্ড একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর।


কিন্তূ পুলিশের এই চার শিট কে নাকচ করেছেন হাদির পরিবার এবং ইনকিলাব মঞ্চ। পুলিশের চার শিট কে প্রশ্নবিদ্ধ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেদ বলেন, এই হত্যার সাথে জড়িত বড় কোন চক্র রয়েছে। এই চার শিট এ যার নাম বা মাস্টার মাইন্ড বলা হচ্ছে তাতে আমরা মনে করি এর পিছনে বড় চক্র আছে যা হয়তো প্রকাশ বা তদন্ত করা হচ্ছে না বলে সঠিক চার শিট দেওয়া হচ্ছে না। আমরা এই চার শিট কে প্রশ্নবিদ্ধ করে নাকচ করে নতুন করে তদন্ত করার দাবি জানাই। 


আদালত তাদের দাবি মঞ্জুর করে এই মামলা নতুন ভাবে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয় সিআইডি পুলিশ কে। এবং ২০ তারিখের মধ্যে আদালতে চার শিট জমা দাওয়া কথা বলা হয়েছে। 


একের পর এক জুমা চলে যাচ্ছে কিন্তূ হাদির হত্যার বিচার পাচ্ছি না এতে আমরা ক্ষুব্ধ এমনটা জানায় হাদির সমর্থনরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন